ইলেকট্রিক কুকার কিনতে চান, কিন্তু ভয় পাচ্ছেন কারেন্ট বিল অনেক বেশি আসবে? আসলে হিসাবটা খুব সহজ, আর বেশিরভাগ পরিবারের জন্য খরচটা যতটা ভাবছেন তার চেয়ে কম। চলুন নিজেই হিসাব করে দেখি।
বিদ্যুৎ খরচ হিসাবের সহজ সূত্র
বিদ্যুৎ বিল হয় ইউনিট ধরে। ১ ইউনিট মানে ১০০০ ওয়াট যন্ত্র ১ ঘণ্টা চললে যতটুকু বিদ্যুৎ খরচ হয়। হিসাবটা তাই খুব সহজ।
একটা উদাহরণ দেখি
ধরুন আপনার কুকার ১২০০ ওয়াটের, আর দিনে মোট ১ ঘণ্টা রান্না করেন (সকালে ভাত, রাতে তরকারি মিলিয়ে)।
- দিনে খরচ ১২০০ × ১ ÷ ১০০০ = ১.২ ইউনিট
- মাসে (৩০ দিন) ১.২ × ৩০ = ৩৬ ইউনিট
টাকায় কত দাঁড়ায়
BERC-এর জুন ২০২৬ থেকে চালু আবাসিক দর অনুযায়ী, বেশিরভাগ বাসার মাসিক ব্যবহার ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিটের মধ্যে পড়ে, যেখানে প্রতি ইউনিট ৮.৫০ টাকা। ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিটে প্রতি ইউনিট ৯.১০ টাকা।

| দিনে রান্নার সময় | মাসে ইউনিট | ৮.৫০ টাকা দরে | ৯.১০ টাকা দরে |
|---|---|---|---|
| ৩০ মিনিট | ১৮ | প্রায় ১৫৩ টাকা | প্রায় ১৬৪ টাকা |
| ১ ঘণ্টা | ৩৬ | প্রায় ৩০৬ টাকা | প্রায় ৩২৮ টাকা |
| ১.৫ ঘণ্টা | ৫৪ | প্রায় ৪৫৯ টাকা | প্রায় ৪৯১ টাকা |
এর সাথে বিলে ভ্যাট আর ডিমান্ড চার্জ যোগ হয়, তাই আসল অংক একটু বেশি হতে পারে। আবার কুকার সবসময় পুরো ওয়াটে চলে না, আঁচ কমালে বা ওয়ার্মারে থাকলে খরচ কম হয়। তাই এই হিসাব মোটামুটি ধারণার জন্য।
গ্যাস সিলিন্ডারের সাথে তুলনা
নভেম্বর ২০২৬-এ ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ২,০৬০ টাকা। একটা সিলিন্ডার কতদিন চলবে তা পরিবারের রান্নার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। তবে ছোট পরিবারের প্রতিদিনের ভাত, ডাল, তরকারির মতো রান্না ইলেকট্রিক কুকারে করলে মাসে কয়েকশো টাকার বিদ্যুতেই হয়ে যায়। অনেকে তাই দুটো মিলিয়ে ব্যবহার করেন। হালকা রান্না কুকারে করেন, ভাজাপোড়া করেন চুলায়। এতে সিলিন্ডার অনেক বেশিদিন চলে।
বিদ্যুৎ বিল কম রাখার ৫টা টিপস
- সবসময় ঢাকনা দিয়ে রান্না করুন, এতে তাপ বাইরে যায় না, রান্না দ্রুত হয়
- স্টিমার ব্যবহার করুন, নিচে ভাত আর ওপরে সবজি বা ডিম একসাথে, একবারের বিদ্যুতে দুই রান্না
- পানি ফুটে গেলে আঁচ কমিয়ে দিন (নব থাকলে)
- প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পানি দেবেন না, বেশি পানি গরম করতে বেশি বিদ্যুৎ লাগে
- রান্না শেষ হলেই সুইচ বন্ধ করে প্লাগ খুলে নিন
কম বিদ্যুতে বেশি রান্না





